নাটোরের গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে শাকিল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে। ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সংসদের একটি প্রতিনিধিদল গুরুদাসপুরে যায়। তাঁরা প্রথমে উপজেলার খামার চাঁচকৈড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শাকিল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনার ইন্ধনদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতারা শাকিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে সেখানে উপস্থিত হন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও জেলা বিএনপির নেতারা।
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেটধারী হামলাকারীরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।
আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। সেখানে টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে ২৬ অক্টোবর রাতে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন।
শাকিল হত্যাকাণ্ডে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং কারা এর পরিকল্পনা ও অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর ন্যায়বিচারের আশ্বাস এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এনেছে।