বিচারকদের দক্ষতা ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় নগরগুলোতে মামলার চাপ অনেক বেশি। যেসব বিচারক দক্ষতা দেখাতে পারবেন এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন, তাঁদের বাছাই করে এসব জায়গায় পদায়ন করা হবে। আর যারা আয়েশ করে চাকরি করতে চান, তাদের এমন জায়গায় দেওয়া হবে, যেখানে আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতের সম্মেলনকক্ষে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ন্যায়বিচারে মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় ই-পারিবারিক আপিল আদালত উদ্বোধন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ই-বেইল বন্ড চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ পাচ্ছেন। ডিজিটাল সাক্ষ্য ও হাজিরার বিষয়ে আইন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনতে হয়। এ জন্য যানবাহনের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হয়। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ ধরনের ব্যবস্থা আরও চালু করা গেলে বিচারব্যবস্থায় আরেকটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
ই-জুডিশিয়ারি চালুর বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটি বাস্তবায়ন করতে হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্র ডিজিটাল করতে হবে। বিচার বিভাগের সামনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এআই ব্যবহার করে রায় লেখা বা সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এআই মানুষের কণ্ঠস্বর এমনভাবে নকল করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে বিচারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচারকদের আরও দক্ষ হতে হবে।
বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চান তারা। মানুষ যেন মনে না করে, বিচারকেরা ন্যায়বিচার করছেন না কিংবা তারা বিচারকাজে দক্ষ নন।
লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, জাইকাসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা সহযোগিতা করছে। ইতোমধ্যে ৩০টি জেলায় এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি।
বিচারকদের আরও সময় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক কর্মকর্তারা আরেকটু সময় ও নিষ্ঠা দিলে আগামী এক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় নগরগুলোতে মামলার চাপ বেশি। এসব জায়গায় দক্ষ ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে সক্ষম বিচারকদের বাছাই করে পদায়ন করতে চান তারা।
বিচারকদের সময়মতো আদালতে আসা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ সকাল ১১টায় আসছেন, আবার বেলা ১টা বা দেড়টার দিকে চলে যাচ্ছেন। এ ধরনের আয়েশি বিচারক থাকলে তাঁদের এমন জায়গায় পদায়ন করা হবে, যেখানে তারা আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন। তিনি বিচারিক সক্রিয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আদালতের প্রতি মানুষের অনাস্থা দূর করতে হবে। আদালতে গেলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়—এমন ধারণা বদলাতে হবে।
অনুষ্ঠানে আইনসচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির, সিএমএম ও সিজিএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা, মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী, জেলা পিপি ইকবাল হোসেন এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।