বোলিংয়ে মিটবে ব্যাটিংয়ের ভুল!

৯৯ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম দিন শেষ করেন। টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরির এত কাছে এসে রাত কাটানো ব্যাটসম্যানের মনে কিছুটা হলেও চাপ কাজ করার কথা। কিন্তু সাদমান ইসলামের ক্ষেত্রে নাকি তেমন কিছুই কাজ করেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গতকাল মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান তিনি। অথচ সেঞ্চুরির আনন্দ দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক ছোঁয়ার পর মাত্র ৫ রান যোগ করেই সাজঘরে ফেরেন। এরপর চোখের পলকে ভেঙে পড়ে দলের ইনিংস।

চারশ রানের স্বপ্ন দেখা দল গতকাল ৩ উইকেটে ২১৩ রানে ব্যাট করতে নেমে গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। অর্থাৎ সর্বশেষ ৫১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রথম সেশনেই অলআউট হয় স্বাগতিকরা। এরপর ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। পরে স্পিনারদের দাপটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশও। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে উইন্ডিজ। হাতে ৬ উইকেট থাকলেও এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে তারা। মিরপুরের উইকেটে দ্বিতীয় দিনেই স্পিনাররা যেভাবে বড় টার্ন পেয়েছেন, তাতে লিডের স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শেষে সাদমান বলেন, ‘যত লিড নেওয়া যায়, তত আমাদের জন্য ভালো। যে রকম বোলিং হচ্ছে, আগামীকাল (আজ) যদি আমরা দ্রুত উইকেট বুঝতে পারি এবং ভালো বল করতে পারি, তো খুব তাড়াতাড়ি চেষ্টা থাকবে তাদের অলআউট করে দেওয়ার।’ তবে ম্যাচের এই অবস্থায় নিজেদের পিছিয়ে রাখছে না ক্যারিবীয়রাও। দলটির ওপেনার জন ক্যাম্পবেল এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে ম্যাচটি বেশ সমানে সমান। আমরা যদি আরও এক-দুটি বড় জুটি গড়তে পারি, তাহলে আগামীকাল (আজ) এগিয়ে থাকব। সামনে আমাদের লক্ষ্য সেটাই।’

নিজেদের লক্ষ্যের দিকে ছোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ গতকাল বাংলাদেশ দলের লক্ষ্যপূরণ করতে দেয়নি। ৪০০ রান করার পরিকল্পনা নিয়ে নামা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের স্পিন বিষে নীল করে তিনশ রানের মধ্যে আটকে দেয়। বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান একাই ৫ উইকেট নেন। অভিষেক হওয়া আরেক বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপের শিকার ২ উইকেট।

নিজে ২৩৪ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেললেও দলের রান বেশি না হওয়ার দায় নিজের কাঁধেই নেন সাদমান, ‘আমি আর লিটন দাস যখন ব্যাটিং করছিলাম, অবশ্যই আমি যদি কিছুক্ষণ খেলতে পারতাম বা ইনিংসটা আরেকটু বড় করতে পারতাম, হয়তো-বা দৃশ্যটা অন্যরকম হতো। হয়তো-বা ওখান থেকে, ওখানে একটা ভুল হয়ে গেছে।’ সেঞ্চুরি পাওয়ার পরও কেন ইনিংস বড় করতে পারলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এটা আমি চিন্তা করেছি যে কেন এতদূর গিয়েও আউট হয়ে যাচ্ছি। লাস্ট কিছুদিন আমি এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছিল ফিটনেস ইস্যু হতে পারে। এ জন্য আমি ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। এর সঙ্গে ব্যাটিংয়ের জন্য মোহাম্মদ আশরাফুল এবং মোহাম্মদ সালাউদ্দিন স্যার কিছু কাজ দিয়েছিলেন, সেগুলো করিনি।’

সাদমানের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসে দ্রুত ধস নামে। আগের দিন ৪২ রানে অপরাজিত থাকা তাওহীদ হৃদয় ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছেড়েছিলেন। দ্বিতীয় দিন ফিরে কোনো রান যোগ করার আগেই বিশপের বলে আউট হন তিনি। এরপর লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় নতুন বলের প্রথম ৯ ওভার পার করায় বড় সংগ্রহের আশাও তৈরি হয়েছিল। তবে শামার জোসেফ, ওয়ারিক্যানের বোলিংয়ে সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। মিরাজ ১৫ রান করে ফেরার পর নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে আউট করেন জোসেফ। পরে টানা দুই বলে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিক্যান। টেস্টে এটি তার তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।

মাঝে কনুইয়ে পাওয়া চোট নিয়েই শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান লিটন। ৩৪ রানে অপরাজিত

থাকলেও দলের সংগ্রহ বাড়াতে পারেননি তিনি। তবে দায়টা নিজেই নেন সাদমান, ‘অবশ্যই এখানে আমাদের আরও ভালো করা উচিত। আমরা যদি টপ অর্ডাররা বা আমি এই স্কোরটা আরেকটু বড় যেমন ১৫০ বা ১৭০, ২০০ করতাম তাহলে দলের রান ৪৫০, ৫০০ হতো। তো আমাদের ভুল হয়ে গেছে। চেষ্টা থাকবে পরবর্তী সময়ে আমাদের যখন এ রকম পরিস্থিতি আসবে, যত বড় করা যায় করব।’

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যাম্পবেলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিক বোলাররা। পেসারদের সামলানোর পাশাপাশি স্পিনার তাইজুল ও মিরাজের বলেও সাবলীল ছিলেন তিনি। চা বিরতির আগে ১ উইকেটে ৮৯ রান তুলে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ক্যারিবীয়রা। বিরতির পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে ক্যাম্পবেলের ৫৪ রানের ইনিংস শেষ হয়। এরপর তাইজুলের বলে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গু ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।

দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৭ রান। তেজনারাইন চন্দরপল ৪৩ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের সামনে এখন দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে লিড নেওয়ার সুযোগ।