ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুইজন

নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুইজনকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আলামিন (২৬) ও আনিসুর (২৫)।

বৃহস্পতিবার রাতে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকা থেকে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাকিল হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কখন তাদের নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, তা পরে জানানো হবে বলেও জানান ওসি।

এর আগে, একই মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

শাকিল দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।

মামলায় একের পর এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে নতুন করে নেওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি ডিবি।