বিশ্বকাপে রানার্সআপ বাংলাদেশ

আজারবাইজানে ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর যাত্রার শেষটা রাঙাতে পারল না বাংলাদেশ। ছেলেদের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এর টায়ার-ই এর ফাইনালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের কাছে ৪-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বায়েজিদ-রাতুলদের। এতে প্লেট পর্বের শিরোপা জেতা না হলেও ১৮৯ দেশের এই বিশাল প্রতিযোগিতায় ১৩০তম স্থান অর্জন করল বাংলাদেশ। 

বাকুর ক্রিস্টাল হলে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে আফ্রিকান দেশটি। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে মোইর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্রুতই পেনেলের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। 

সেখানে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন তাকিব। ২৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক ফ্রি-কিকে ব্যবধান কমান তিনি (২-১)। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকেনি। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড মোই তার দারুণ ছন্দে ২৭ মিনিটে দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় এবং ৩৯ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের ব্যবধানে শিরোপা উল্লাসে মাতে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।

টুর্নামেন্টের শুরুটা কিছুটা পথ হারিয়ে হলেও নকআউট পর্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছিল বাংলাদেশ দল। গ্রুপ পর্বে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরুর পর পর্তুগালের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হার এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল তাদের।

এমনকি গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হেরে কিছুটা ব্যাকফুটেও চলে গিয়েছিল দল। তবে ফিজির বিপক্ষে ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে টায়ার ‘ই’-তে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই শুরু হয় জয়রথের। নকআউট পর্বের শুরুতেই টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপ জয় করে সিশেলসকে ৪-২ গোলে এবং পরবর্তী ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় বায়েজিদ-রাতুলরা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর সেমিফাইনালে এসে গ্যাবনের মুখোমুখি হয় তারা। সেখানে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে ফিফার বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে এসে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।