বোয়ালমারীতে ৫ বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে মামলা 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মক্তবের একটি কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। অভিযোগের পর থেকে অভিযুক্ত আল আমিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোতাশী রেলগেটসংলগ্ন বাইতুন নুর মসজিদ মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় খেলতে গিয়ে পিপুল লতার পাকা লাল ফল সংগ্রহ করছিল। স্থানীয়ভাবে ফলটি ‘পিপুল মরিচ’ নামে পরিচিত। এ সময় আল আমিন শিশুটিকে আরও বেশি ফল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে মাদরাসার মক্তবের মোতোয়াল্লির কক্ষে নিয়ে যান।

সেখানে শিশুটির পোশাক খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়াসহ অশোভন আচরণের চেষ্টা করেন আল আমিন। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে ঘটনাটি জানায় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে শিশুটি অভিযুক্ত আল আমিনকে শনাক্ত করে।

শিশুটির মা বলেন, খেলাধুলার জন্য পিপুল মরিচ সংগ্রহের সময় তাঁর মেয়েকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। চিৎকার করার পর আল আমিন তাকে ছেড়ে দেন।

অভিযুক্ত আল আমিন বর্ণিচর গ্রামের কাইয়ুম মাস্টারের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে সোতাশী গ্রামে তার নানা আলেম মাওলানা নুর মোহাম্মদের বাড়িতে বসবাস করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আল আমিনের বোন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাননি। তিনি জানান, আল আমিন বর্তমানে বাড়িতে নেই। এ সময় বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু লস্কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শিশুটিসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। শিশুটির মা বাদী হয়ে রাতে থানায় মামলা করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, শিশুর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।