নাটোরের বড়াইগ্রামে জাল দলিল দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ৪১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে বাধা দিলে সন্তানসহ তাকেও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী আরোজা খাতুন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে আব্দুল আলিম। আরোজা খাতুন উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী বাদশা প্রধানের স্ত্রী।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, আরোজা খাতুন ১৯৭৮ সালের ২১ জুন তার শ্বশুর নুর হোসেনের কাছ থেকে কচুয়া মৌজার ৭৪৩ হালদাগে ৪১ শতাংশ জমি কিনে খাজনা-খারিজসহ ভোগ-দখল করে আসছিলেন। ২০১১ সালে নুর হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী আছিয়া খাতুন ও তার ছেলেরা জমিটি তাদের দাবি করে নাটোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একটি দলিল (নং ৩১৭৩, তারিখ: ২৬ জুন ১৯৭৮) দেখান। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হলে পিবিআই তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ওই দলিলটি নাটোরের পির্জিপাড়া গ্রামের লালচাঁন প্রামাণিক ও ফরমান আলী প্রামাণিকের মধ্যে সম্পাদিত দলিল এবং আছিয়া খাতুনের দলিলের কোনো অস্তিত্ব নেই।
কিছুদিন পর প্রতিপক্ষরা আবারও একই তারিখ ও একই দলিল নম্বরে পাবনার ঈশ্বরদী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমিটি রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে দাবি করে। তবে নতুন এই দলিলেও সাবেক ও হাল দাগ এবং জমির পরিমাণে ভুল পাওয়া যায়। এ নিয়ে সম্প্রতি আদালতে জালিয়াতির মামলা করেছেন আব্দুল আলিম। কিন্তু মামলা চলাকালেই সম্প্রতি প্রতিপক্ষ আমির হোসেন ও চাঁদ মিয়াসহ তার স্বজনরা জমিটি জোরপূর্বক দখল করে চাষাবাদ শুরু করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ আমির হোসেন ও চাঁদ মিয়া জমিটি তাদের বলে দাবি করলেও একটি জমি দুই জায়গায় একই নম্বরে রেজিস্ট্রির বিষয়ে এবং তাদের দলিল নম্বরে অন্য লোকের দলিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।