নারী নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তী মারা গেছেন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী মারা গেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ক্যান্সার রোগে ভোগ ছিলেন।

দেবাহুতি চক্রবর্তী রাজবাড়ী শহরের একটি প্রতিষ্ঠিত চক্রবর্তী পরিবারের সন্তান ছিলেন। তার বাবার নাম কুমারেশ চক্রবর্তী। তার মৃত্যুতে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার জানায়, ২০১৩ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। নিজে ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে ‘রাজবাড়ী ক্যান্সার সোসাইটি’গড়ে তোলেন। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো।

দেবাহুতি চক্রবর্তীর ছোট ভাই ধুর্জটি চক্রবর্তী জানান, শনিবার সকালে তার মরদেহ রাজবাড়ী শহরের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর আগেই নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন।

শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। তি‌নি ছি‌লেন রাজবাড়ী জেলা বার ‌অ্যাসোসি‌য়েশ‌নের প্রথম নারী আইনজীবী।

রাজবাড়ী জেলা গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাহবুব রহমান বলেন , দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন মানবিক আইনজীবী। সারা জীবন তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন ‘আবোল তাবোল’ শিশু সংগঠন। রাজবাড়ীবাসী যেন একজন নক্ষত্র হারাল।