এল ক্লাসিকোর চরম উত্তেজনাকর লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের ক্ষত তো আছেই, এবার তার ওপর যোগ হলো নিজ সমর্থকদের উগ্র আচরণের মাশুল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে ও গ্যালারিতে ঘটে যাওয়া একগুচ্ছ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বার্সেলোনা।
লা লিগায় দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে আসন্ন হোম ম্যাচে (বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায়) ক্যাম্প ন্যুয়ে নির্ধারিত গ্যালারিতে পুরো ‘গোল ১৯৫৭’ সমর্থকগোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কাতালান ক্লাবটি। সমর্থকদের এমন অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড কেবল বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাই ডেকে আনছে না, বরং ক্লাবের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে, লস ব্লাঙ্কোসদের জয়সূচক গোলের পর। স্প্যানিশ ফুটবলের অনুশাসন কমিটি ও লা লিগার শৃঙ্খলা সংক্রান্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে অন্তত ১০টি গুরুতর অভিযোগ। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো, গোল উদযাপনের সময় উক্ত পেছনের গ্যালারি থেকে এক সমর্থক পতাকা নিয়ে আঘাত করেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে।
এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের হেড কোচ হোসে মরিনহো এবং বার্সার সাবেক একাডেমি খেলোয়াড় মার্ক কুকুরেয়াকে লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে ক্রমাগত অশালীন গালিগালাজ ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার বিষয়টিও শৃঙ্খলা কমিটির নজরে আনা হয়েছে।
নিজেদের অফিশিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘খেলার মূল ভাবাদর্শের বিপরীত আচরণের দায়ে ক্লাব ও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের এই ধরণের আচরণ ক্লাবকে বড় আর্থিক জরিমানা ও গ্যালারি বন্ধের ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি ক্লাবের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করছে।’
ক্লাবটি আরও জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই সমর্থকগোষ্ঠীর (গোল ১৯৫৭) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন কর্মকর্তারা।
১৯৫৭ সালে মূল ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম উদ্বোধনের ঐতিহাসিক বছরকে স্মরণীয় করে তৈরি এই বিশেষ অ্যানিমেশন স্ট্যান্ডটি চলতি বছরের মার্চে নতুন করে গঠন করা হয়, যেখানে প্রায় ৮০০ সংগঠিত সমর্থকের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে মোন্তজুইক স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীনও সমর্থক সংগঠনগুলোর অনিয়মের কারণে গ্যালারির নির্দিষ্ট অংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল বার্সা প্রশাসন।