পুলিশে ৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত, একজন অবসরে

বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে আরেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, শ্যামল কুমার মুখার্জী, মো. আনিসুর রহমান ও মো. তারেক বিন রশিদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন ও মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করা এবং অসদাচরণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিকবার যোগাযোগ ও নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি যোগ দেননি। পলায়নের অভিযোগে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজশাহীতে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্তির পর যোগদান করলেও পরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে পড়েন। একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও কাজে যোগ না দেওয়ায় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

সাবেক পুলিশ সুপার মো. তারেক বিন রশিদ ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে শ্রান্তি বিনোদন ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে ১৭ নভেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি। পরে পদত্যাগের আবেদন করলেও তা নাকচ হয়। অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও যোগ না দেওয়ায় তদন্তে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ কারণে ওই তারিখ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার ফারহানা তাসকিন, মো. মনিরুজ্জামান সরকার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকে বিদেশে অবস্থান করে অনুমোদিত ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ফারহানা তাসকিন কানাডায় অবস্থান করছেন। মনিরুজ্জামান সরকার যুক্তরাজ্যে পিএইচডি করতে গিয়ে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরেননি। অন্যদিকে, এস এম জাহাঙ্গীর হাছানের বিদেশে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন নাকচ হলেও তিনি দেশে ফেরেননি।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফারহানা তাসকিনকে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ, মনিরুজ্জামান সরকারকে ২০১৯ সালের ১ জুলাই এবং এস এম জাহাঙ্গীর হাছানকে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অসদাচরণের অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। ডিএমপিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।