একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন 

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ ও গোপ্লান লিমিটেডের সমঝোতা 

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ এবং গোপ্লান লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘Academia–Industry Collaboration: MoU Signing Ceremony’ অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GoPlane Limited-এর পরিচালক জনাব মোঃ রাইসুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মির্যা আসিফ। এ ছাড়া Walton, Mojaru, Robotech Valley, Batterylow Interactive, BDRen, PeopleNTech, Felicity IDC, Duke of Edinburgh Award Foundation, Data Soft, BRACNet ও KPJ-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, আগামী ৫ বছরে জিডিপিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
 
ডিজিটাল অর্থনীতি গঠনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস, অটোমেশন, ডেটা সায়েন্স ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক ও যুগোপযোগী বিষয়ে বিভাগ চালু করা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ কিংবা বক্তব্য প্রদানের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং দৃশ্যমান ও বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায়। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।