জ্বালানি সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এই সংকটের জন্য সরকার কোনোভাবেই দায়ী নয়।
তিনি বলেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির জোরালো উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সহনীয় ও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এ অবস্থায় জ্বালানি সংকটকে অজুহাত বানিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির কোনো বাস্তবসম্মত যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ঢাকা) আয়োজিত পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ দিন সকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ শুরু করেছে। জোটের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারত্ব বন্ধ করা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান এই জ্বালানি সংকট কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের পরিণাম। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ যে অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ হওয়ার কথা, সেই এলাকাটি এখন সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পরও সরকার সংকট মোকাবেলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে এবং অন্যান্য জ্বালানির পরিস্থিতিও ক্রমান্বয়ে সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে।
বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি পরিচালনা করছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সরকারের এই দৃশ্যমান সাফল্যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও চরম ঘাটতিতে পড়ে যাওয়া বিরোধী দলগুলো মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এই লংমার্চ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই কর্মসূচির কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
রিজভী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশ ও দেশের বাইরে একের পর এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ জাপান সফর করেছেন। সেই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং উৎপাদন খাতে গতিশীলতা আনবে। এর আগে তাঁর চীন সফরও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারের এসব উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ এবং গতিশীল নেতৃত্বকে জনগণের সামনে থেকে আড়াল করতেই বিরোধীরা হীন উদ্দেশ্যে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় তারা এখন আর এ নিয়ে কোনো জোরালো কথা বলতে পারছে না।’
‘সমাজে যারা নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, তাদের কঠোর হাতে দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। প্রতিদিন কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে,’ আরও বলেন তিনি।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভালো দাবি করে রিজভী বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এ কারণে তারা সরকারের জনপ্রিয় ও নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজে অত্যন্ত সফল মন্ত্রীদের টার্গেট করে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের গতিশীল কার্যক্রম ও জনমুখী তৎপরতাকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।