ফেল করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যে বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর সবটুকু যোগ্যতা বোঝা যায় না, ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয়ে যায় না। তাই প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আবার এগিয়ে যেতে হবে।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফেল করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এবার প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই সময়ে নিজেকে একা ভাবা যাবে না। পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একটু সময় নিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আবার এগিয়ে যাওয়ার পথে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের ফলাফল সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। পাসের হার উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এই ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতির একটি বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে কীভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো যায় এবং শিক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা যায়, সেটিই এখন লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কম পাসের হার আমাদের অর্জন নয়। আমাদের সাফল্য হবে, যখন শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে নিজের যোগ্যতায় ভালো ফল করবে।

শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ হতে পারে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না, প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন যথাযথ হচ্ছে কি না—সবই গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। পরীক্ষায় সততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালোভাবে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একটি বা দুটি বিষয়ের জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করে প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত আবার চেষ্টা করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, তা বুঝে প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে হবে। আর অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানের কথা শুনতে হবে, অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে। ফল যা-ই হোক, পরিবারের কাছে তার ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গাটি অটুট রয়েছে, সেটি সন্তানকে অনুভব করাতে হবে।

বার্তার শেষাংশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার চায় প্রতিটি শিক্ষার্থী ভালোভাবে শেখার সুযোগ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাক এবং পিছিয়ে পড়লে আবার এগিয়ে যাওয়ার সহায়তা পাক। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই এই দায়িত্ব পালন করতে চায় সরকার।