গুলশান সোসাইটির আয়োজনে 'শকুন্তলা' নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ণ 

প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের অন্যতম বিশেষ চরিত্র শকুন্তলার প্রেম, বিরহ, স্মৃতি ও বিস্মৃতির পৌরাণিক কাহিনি নিয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে ধ্রুপদি নৃত্যনাট্য ‘শকুন্তলা’। গুলশান সোসাইটির আয়োজনে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গুলশান লেক পার্কে নৃত্যনাট্যটির প্রাণবন্ত মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

রাজর্ষি বিশ্বামিত্র ও স্বর্গীয় অপ্সরা মেনকার কন্যা শকুন্তলা তপোবনে বেড়ে ওঠেন। রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের পর তাদের জীবনে আসে নানা সংকট। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান এবং একপর্যায়ে তাঁকে অস্বীকার করেন। পরে হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় আংটি ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের পুনর্মিলনের পথ তৈরি হয়।

মহাকবি কালিদাস তার বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’-এ এই কাহিনিকে অসাধারণ নাট্যরূপ দিয়েছেন। নৃত্যদল ভাবনা গুলশান লেকের মনোরম পরিবেশে নৃত্যনাট্যটি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে তৈরি করে এক মোহনীয় আবহ। এর নির্দেশনায় ছিলেন সামিনা হোসেন প্রেমা।

অনুষ্ঠানে গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনটির মূল উদ্যোক্তা গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইট-পাথরের এই শহরে আমরা যানজট, ময়লা-আবর্জনা ও যানবাহনের হর্নের শব্দ শুনতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এর বাইরেও আমাদের মনে প্রেম-ভালোবাসা কিংবা একটি শিল্পসত্তা রয়েছে। তবে এসবের জন্য আমরা খুব একটা সময় ও পরিবেশ পাই না।”

তিনি আরও বলেন, শকুন্তলা নৃত্যনাট্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারাকে প্রবাহিত করার একটি প্রয়াস চালিয়েছি।

ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, শকুন্তলা যেমন তার প্রেমিক রাজা দুষ্মন্তের আংটি হারানোর পর অনেক কষ্টে আবার ফিরে পায়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরাও সেই আংটির মতো হারিয়ে যেতে বসা শিল্প, সংস্কৃতি এবং জীবনবোধ ফিরে পেতে চাই।