মানুষের ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তার কথা ও কাজের মাধ্যমে। মুখে ভালো কথা বলা সহজ, কিন্তু সেই কথার প্রতিফলন নিজের কাজে ঘটানোই প্রকৃত দায়িত্বশীলতার পরিচয়। একজন মুমিনের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। ইসলাম মানুষকে এমন আচরণের শিক্ষা দেয়, যেখানে মুখের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব আমলের মধ্যে কোনো ব্যবধান থাকে না।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা তোমরা করো না?’ (সুরা সফ ২)
এই আয়াতে মুমিনদের কথা ও কাজের অসংগতির ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তাফসিরে আহসানুল বায়ানে আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এখানে সম্বোধন ব্যাপক হলেও মূলত সেই মুমিনদের উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে, যারা বলেছিলেন, আল্লাহর কাছে কোন কাজ সবচেয়ে প্রিয়, তা যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে সেই কাজ করব। কিন্তু যখন তাদের জানিয়ে দেওয়া হলো যে, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কোনটি, তখন তাদের কেউ কেউ তা পালনে অলসতা দেখালেন। এ অবস্থায় আল্লাহ তাদের সতর্ক করে বললেন, তোমরা যে কল্যাণকর কাজের কথা বলো, তা নিজেরা করো না কেন? মুখে যা বলো, কাজে তার প্রমাণ দাও না কেন?
এই আয়াত থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, মুখের কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানুষকে ভালো কাজের উপদেশ দেওয়া অবশ্যই উত্তম। তবে নিজে সেই উপদেশ অনুযায়ী আমল না করলে কথার যথার্থতা নষ্ট হয়। অন্যকে সত্যবাদিতার শিক্ষা দিয়ে নিজে মিথ্যা বলা, আমানত রক্ষার উপদেশ দিয়ে নিজে খেয়ানত করা কিংবা ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরে নিজে অবহেলা করা একজন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়।
তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, কথা বলার আগে নিজের অবস্থান বিবেচনা করা এবং যে ভালো কাজের কথা অন্যকে বলা হয়, তা নিজের জীবনেও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। প্রকৃত মুমিনের পরিচয় বক্তব্যে নয়, বরং আমল ও আচরণে প্রকাশ পায়।