ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ হলেও নবীনগর উপজেলায় পাসের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ বছর উপজেলায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৭৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১২৩ জন।
উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে একমাত্র বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজের পাসের হার বোর্ডের গড় পাসের হার ছাড়িয়েছে। বাকি কোনো কলেজই বোর্ডের গড় পাসের হার অতিক্রম করতে পারেনি।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের ধারণা, পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীরা আগের মতো অনিয়মের সুযোগ পায়নি। বিশেষ করে অসৎ উপায় অবলম্বন কিংবা পাশের সহপাঠীর খাতা দেখে লেখার সুযোগ না পাওয়ায় ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। তাঁদের মতে, কেন্দ্র পরিবর্তনের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সাময়িকভাবে ফল খারাপ হলেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বাধ্য হবে।
এবার নবীনগরে সর্বোচ্চ পাসের হার বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ১২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৭ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৫৪ জন।
অন্যদিকে, উপজেলায় সর্বনিম্ন পাসের হার সলিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৩০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৩ জন, ফেল করেছেন ২২৮ জন।
নবীনগরের একমাত্র সরকারি কলেজ নবীনগর সরকারি কলেজের পাসের হার ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৮৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৪ জন।
কাইতলা আলীমউদ্দিন জুবাইদা ডিগ্রি কলেজের পাসের হার ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২১ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬১ জন। সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৬ জন এবং ফেল করেছেন ১০০ জন।
ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজের পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২২৩ জন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অতীতে উপজেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটির এমন ফল হতাশাজনক।
নবীনগর মহিলা কলেজের পাসের হার ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ১৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৫৪ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ১১৮ জন। শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৩১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৯ জন, অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৫ জন।
উপজেলার জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুইজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি। একইভাবে বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হননি।
সব মিলিয়ে নবীনগর উপজেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে নবীনগর সরকারি কলেজের তিনজন, বিটঘর মহেশ ভট্টাচার্য কলেজের তিনজন, নবীনগর মহিলা কলেজের দুজন, সলিমগঞ্জ কলেজের একজন এবং ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজের একজন রয়েছেন।