ভারতের রেকর্ড ছুঁয়ে লাহোরের ফাইনাল জিতলো পাকিস্তান

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রান উৎসবের রোমাঞ্চকর ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শাহীন শাহ আফ্রিদির দল।

এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ফাইনালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের ভারতের রেকর্ড ছুলো পাকিস্তান। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দেন কামিন্দু ম্যান্ডিস। ১২টি চার ও ২টির সাহায্যে ১২৮ বলে ১৩১ রানের এক দর্শনীয় ইনিংস খেলেন তিনি, যা তার ওডিআই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এছাড়া পাবন রথনাযাকে ৬৫ বলে ৭৭ রান এবং ওপেনার আবিষ্কা ফার্নান্দো ৩৮ রান করেন। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে শাহীন আফ্রিদি ৫০ রানে ২ট, সালমান আলী আগা ৪৪ রানে ২ট এবং হারিস রউফ ৬০ রানে ২ট উইকেট নেন।

৩২৬ রানের পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। তারকা ব্যাটার বাবর আজম খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। দলীয় ১৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ফিল্ডিংয়ের সময় হাঁটুতে চোট পাওয়ায় ফখর জামানের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে সেই চোট পেছনে ফেলে ওপেনিংয়ে নেমে তাণ্ডব চালান এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটার।

তৃতীয় উইকেটে তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার সাদ বেগ-কে সাথে নিয়ে ১৪৯ রানের এক অসাধারণ জুটি গড়েন ফখর। মাত্র ৮৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ৯৯ বলে ১২৭ রানের অসাধারণ এক ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন ফখর, যা তার ক্যারিয়ারের ১২তম ওডিআই সেঞ্চুরি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া সাদ বেগ ৭৫ বলে করেন ৭৪ রান।

মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান আবারও সামান্য চাপে পড়লেও, সপ্তম উইকেটে তরুণ হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের ৯৪ রানের বিধ্বংসী জুটি ম্যাচ সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়। আরাফাত মিনহাস মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে জয়ের ভিত নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান তুলে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে দিলশান মাদুশঙ্কা ৬৩ রানে ৩টি এবং অসিথা ফার্নান্দো ৭২ রানে ২টি উইকেট শিকার করলেও পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং রুখতে ব্যর্থ হন। ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ফখর জামান।