শামসুল হক খান কলেজ

দেড় যুগের সাফল্য অব্যাহত

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজধানীর ডেমরার ঐতিহ্যবাহী শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ আবারও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা, অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো ফল অর্জন করেছে।

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির তিন বিভাগ থেকে মোট ১ হাজার ৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৬৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২৮ জন শিক্ষার্থী। বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৯৬ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩১ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭ জন। এ ছাড়া মানবিক বিভাগে ১৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২ জন। এবারের কলেজের তিন বিভাগ মিলিয়ে পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ১৮ জন।

এর আগে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ছিল আরও উজ্জ্বল। ওই বছর ১ হাজার ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১ হাজার ১২৯ জন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ অর্জন করেন ৪২৩ জন শিক্ষার্থী। ওই ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩০৯ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩৯ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

দুই বছরের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ জন কমেছে। এ ছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৯৫ জন কম হলেও পাসের হার ৯৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমলেও সামগ্রিক পাসের হার ধরে রাখায় প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য ফল অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখা এবং নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মেধার পরিচয় দিয়েছেন।