রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ফল ভালো তবুও নেই উচ্ছ্বাস

ঘড়ির কাঁটায় বেলা তখন ১১টা ৩৮ মিনিট। অর্থাৎ আরও ৩৮ মিনিট আগে বেলা ১১টায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল দেওয়া হয়েছে। অথচ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে এই ৩৮ মিনিট জুড়েই যেন ছিল শুনশান নীরবতা।

অডিটরিয়ামের বারান্দায় অলস পড়ে আছে সারি দিয়ে রাখা আটটি বাদ্যযন্ত্র। অডিটরিয়ামের বাম পাশে গাছের ছায়ায় বসে আছেন দুই নারী। কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে কাজ করছে অন্যরকম এক দুশ্চিন্তা। কারণ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা জানতে পারেননি ছেলেদের রেজাল্ট। অডিটরিয়ারের ডান পাশে বাধাহীন এইচএসসি-২০২৬ পালনের আয়োজন। তবে সেখানেও নেই আয়োজকরা ছাড়া কেউ।

ঘড়ির কাঁটা বেলা তখন ১১টা ৩৯ মিনিট। প্রশাসন ভবন থেকে বেরিয়ে, ‘আম্মো জিপিএ-৫’ বলে চিৎকার করতে করতে গাছের নিচে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরেন এক শিক্ষার্থী। তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। চোখ থেকে গড়াতে শুরু করে অশ্রু। মুহূর্তেই যেন কেটে গেল এতক্ষণের সব নীরবতা। ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু শাহরিয়ার শাওন।

এরপর এলেন আরেক শিক্ষার্থী। তিনিও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ফল জানতে তার সঙ্গে এসেছেন বাবা ও মা। এ ছাড়া ওই সময় পর্যন্ত রেজাল্ট নিতে প্রতিষ্ঠানে আর কাউকে আসতে দেখা যায়নি। তবে রেজাল্ট উদযাপনের জন্য কলেজ প্রাঙ্গণে আগে থেকেই দুপুর ১২টায় সময় নির্ধারণ করা ছিল।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যায়, এ বছর ৯৩২ জনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছিলেন ৯৩১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯৩১ জনই। একজন অনুপস্থিত থাকায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৮৯ শতাংশ। দেশে এবার পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬০৫ জন।

এত শিক্ষার্থীর এত ভালো অর্জন অথচ সেখানে নেই সেই উদযাপনের আমেজ। দুপুর ১২টায় উদযাপনের কথা থাকলেও তেমন কেউ আসেননি প্রতিষ্ঠানে। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে ৬-৭ জন শিক্ষার্থী ২০ সেকেন্ডের মতো বাদ্য বাজান। এরপর অর্জনের একটি ব্যানার নিয়ে ১২ থেকে ১৫ জন দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন এবং ভিডিও করেন। সব মিলিয়ে ততক্ষণে ২০ থেকে ২৫ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এসেছেন।

এর আগে কথা হয় আবু শাহরিয়ার শাওন ও তার মায়ের সঙ্গে। শাওন বলেন, জিপিএ-৫ পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। আরও ভালো লাগছে, এই আনন্দের দিনে মা সঙ্গে আছেন। আমার খুবই ভালো লাগছে।

শাওনের মা শামীমা পারভীন বলেন, সন্তানের অর্জন তো আমারই অর্জন। ও তো আমারই অংশ। ও অনেক পরিশ্রম করেছে। সাফকাত বিন জাহিদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সারা দেশের সঙ্গে মেলালে আমাদের কলেজের ফল অনেক ভালো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার ফল নিয়েও আমি সন্তুষ্ট।

সাফকাতও জিপিএ-৫ পেয়েছেন। রেজাল্ট জানতে সঙ্গে এসেছিলেন তার মা-বাবা। সাফকাতের বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলে ভালো রেজাল্ট করেছে। ছেলেকে নিয়ে গর্বিত। আর কৃতিত্ব যা সব ছেলের মায়ের।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের ইসলাম শিক্ষার প্রভাষক  মাহমুদুল হাসান বলেন, সারা দেশে যেখানে মাত্র ৫২ শতাংশ পাসের হার, সেখানে আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।