রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

মেয়েকে নিয়ে ফলাফল দেখতে কলেজে আসেন ইয়াসমিন বেগম। মেয়ে মৌমিতা তাবাস্সুম অর্থী কলেজ ভবনের ভেতরে শিক্ষকদের কাছ থেকে ফলাফল জানার চেষ্টা করছেন। আর মা বাইরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ফলাফল জানার চেষ্টা করছেন। এক পর্যায়ে আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠে ইয়াসমিন বেগমের মুখ। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে কল দেন। ফোন ধরলে তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘আম্মু, তুমি তো এ প্লাস পেয়েছ। আমি তোমার আব্বুকে কল দিচ্ছি, তুমি তাড়াতাড়ি এদিকে আসো।’

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন অর্থী। প্রতিবারের মতো এবারও রাজউক তাদের পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে। এবার রাজউকের ১ হাজার ৬৩৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৬২৬ জন, পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮২৯ শিক্ষার্থী। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগের ১ হাজার ১৩০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১২৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৮৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮১ জন। মানবিকে ১২২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২১ জন।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘এই সাফল্যের মূল ভাগীদার ও কৃতিত্বের অধিকারী আমাদের শিক্ষার্থীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এ সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।’ প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, সবাই ভালো ফল করবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে চেষ্টা চালিয়ে গেলে একসময় সফলতা আসবেই।

সরেজমিন দেখা যায়, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে বেলা ১১টার দিকে ফলাফল দেখতে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী আসেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু শিক্ষার্থী কলেজে আসতে থাকেন। তবে আগের বছরগুলোর মতো সকাল থেকেই কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ভিড় বা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফল জানতে কলেজে আসেন।

জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী রিজওয়ান রোমিও সরকার। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। কারণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে অনেক ভুল ছিল, প্রশ্নও ছিল কঠিন। বিশেষ করে ইংরেজি ভার্সনের অনুবাদে বেশ কিছু ত্রুটি থাকায় পরীক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল পাওয়ায় আমি খুশি।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এ গ্রেড পাওয়া ফারিয়া নওশীন রাইসা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ প্লাস না পাওয়ায় কিছুটা খারাপ লাগছে। তবে পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছেন, সেই বিবেচনায় ফল ভালো হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী আনোয়ার রহমান মুন্নার বাবা মাহবুবুর রহমান ছেলের ফলাফলে অত্যন্ত খুশি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলে প্রতিদিন টানা ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। প্রশ্ন কঠিন হওয়ার পরও সে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে।’