৩৬ ভিলা কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে আইএএস-আইপিএস দম্পতি

ভারতের রাজস্থানে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি একটি আবাসন ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক রিসোর্ট ভিলা কেনার অভিযোগ উঠেছে জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা শিখর আগরওয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিস্তারিত তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজস্থানের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) এ তদন্ত পরিচালনা করবে। খবর এনডিটিভির।

তদন্তের আওতায় থাকছে আগরওয়ালের সঙ্গে গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালকদের কথিত যোগসাজশ। প্রতিষ্ঠানটি ‘আনন্তা’ ব্র্যান্ডের অধীনে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনা করে। আগরওয়াল সম্প্রতি রাজ্যের শিল্প বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে রিসোর্ট নির্মাণের শর্ত শিথিল করা, প্রয়োজনীয় সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করে অনুমোদন দেওয়া এবং বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কম দামে সম্পত্তি কেনার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক ভাস্করের একটি প্রতিবেদন, শিল্প বিভাগের দেওয়া তথ্য এবং গোপন সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালায় রাজস্থান দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ওই অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ১৭এ ধারায় তদন্তের পূর্বানুমোদন দিয়েছে।

এসিবির মহাপরিচালক গোবিন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, আগরওয়াল, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসিবির ধারণা, আগরওয়াল প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজের সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি অনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রাজ্য সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

আগরওয়াল উদয়পুরের জেলা কালেক্টর, রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং শিল্প বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব পদে থাকাকালে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড অনৈতিক সুবিধা পেয়েছিল কি না এবং ওই সুবিধার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের রিসোর্ট ভিলা কেনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

প্রতিষ্ঠানটির রাজস্থানের উদয়পুরের বুঝদা ও আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় আনন্তা ব্র্যান্ডের রিসোর্ট রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই দুই রিসোর্টে কেনা মোট ৩৬টি ভিলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ভিলা আগরওয়াল, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।

উদয়পুরে ২০ ভিলা কেনার অভিযোগ

উদয়পুরের বুঝদায় আনন্তা রিসোর্টে ২০২৬ সালের মার্চে ২০টি ভিলা কেনার তথ্য পেয়েছে এসিবি। এর মধ্যে ১০টি আগরওয়ালের নামে এবং বাকি ১০টি তাঁর স্ত্রী আইপিএস কর্মকর্তা প্রশাখা মাথুরের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রতিটি ভিলার ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রুপি। সে হিসাবে ২০টি ভিলার মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি।

আজবগড়ে পরিবারের নামে ১৬ ভিলা

অন্যদিকে, আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় আনন্তা রিসোর্টে আরও ১৬টি ভিলা কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আটটি আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হয়েছে। দুজনের নামে চারটি করে ভিলা কেনা হয়।

এ ছাড়া তাদের দুই ছেলের নামে চারটি এবং আগরওয়ালের শ্বশুর-শাশুড়ির নামে আরও চারটি ভিলা কেনার তথ্য পাওয়া গেছে।

আজবগড়ের ভিলাগুলোর প্রতিটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ রুপির মধ্যে। আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে কেনা আটটি ভিলার প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ১৬ লাখ রুপি। তাদের দুই ছেলের নামে কেনা চারটি ভিলার প্রতিটির দাম প্রায় ১৫ লাখ রুপি এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নামে কেনা চারটির প্রতিটির দাম প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ রুপি।

এসিবির প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, উদয়পুরের বুঝদায় ২০টি এবং আজবগড়ে ১৬টি মিলিয়ে মোট ৩৬টি ভিলা কেনার অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পত্তির বাজারমূল্যের তুলনায় ক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থাটি।

একই দিনে আর্থিক সুবিধা ও ভিলা নিবন্ধন

এসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ রাজ্যের অর্থ বিভাগ গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডকে বিশেষ ছাড়ের আওতায় একটি আর্থিক প্যাকেজ দেয়। তদন্তকারীরা একই দিনে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০টি ভিলা নিবন্ধনের তথ্যও পেয়েছেন।

এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে ভিলা কেনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসাজশ, সম্পদের উৎস এবং রাজ্য সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।