মাদক ব্যবসায়ীদের শেষ সতর্কবার্তা দিলেন ওসি

বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগদানের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছেন নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর। ধারাবাহিক অভিযান, পাড়া-মহল্লায় সরাসরি উপস্থিতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন তিনি। তাঁর এমন তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মুসল্লিদের সামনে মাদক নির্মূলে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ওসি শহীদ তিতুমীর। এ সময় তিনি বলেন, ‘হয় বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে।’ তার এমন বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত বারোপোতা বাজারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ছোটআঁচড়া-শিকড়ি সড়ক, বেনাপোল পৌরগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন ওসি। বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন তিনি। মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে দুই হাত-পা দিয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তবুও মাদক বিক্রির মতো অপরাধে জড়ানো যাবে না।

মাদক ব্যবসার পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন জুয়া নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন মোবাইলের অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা। এ অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ পুলিশের জন্য বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যেই ওসি শহীদ তিতুমীরের এমন তৎপরতায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে তার ঘোষিত কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা সময়ই বলে দেবে। স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বেনাপোল পোর্ট থানা পেশাদারত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।