উড়োজাহাজ কেনা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় কঠোর মন্ত্রণালয়

জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে দ্রুত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এতে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছাড়াও কমিটির সদস্য এবং মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।

মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, গত ২০ বছরে জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার সব ধরনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় এ বিমান সংস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করা না হলে আগামী কয়েক বছরে বিমান উড়োজাহাজ সংকটে পড়তে পারে।

তিনি জানান, নতুন কেনা উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে বর্তমান বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হতে থাকবে। ফলে ভবিষ্যতের সংকট এড়াতে এখনই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় করছে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব আয় থেকে পর্যায়ক্রমে কেনার অর্থ পরিশোধ করবে। সরকার শুধু গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

বিগত সরকারের সময়ে করা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সেসব কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি অব্যাহত থাকবে।

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও সভায় কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ২ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।