প্রাণীদের নিজস্ব যোগাযোগ মাধ্যম আছে, তবে এটি মানুষের মতো কোনো ‘ভাষা’ নয়। তারা বিভিন্ন শব্দ, অঙ্গভঙ্গি, গন্ধ এবং শরীরের নানা ধরনের সংকেতের মাধ্যমে ভাব আদান-প্রদান করে। হাতি কান নেড়ে ও নিচু কম্পন শব্দে শুভেচ্ছা জানায়। পিঁপড়া ও বিভিন্ন পতঙ্গ, ফেরোমোন বা গন্ধ ব্যবহার করে পথ ও বার্তা আদান-প্রদান করে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এআই এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পাখি, তিমি, ডলফিন ও ইঁদুরের ডাক বিশ্লেষণ করে যোগাযোগের ধরন বোঝার চেষ্টা করছেন। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের কারণে কুকুর মানুষের কণ্ঠস্বর, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ বুঝতে বিশেষভাবে দক্ষ। কুকুরদের পাশাপাশি বিড়াল, ঘোড়া ও গরুর মতো প্রাণীও মানুষের নির্দিষ্ট সংকেত বুঝতে পারে। সব মিলিয়ে, প্রাণীরা মানুষের সব কথা বুঝতে না পারলেও পরিচিত শব্দ, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গি থেকে শিখতে পারে। মানুষের মতো ভোকাল কর্ড থাকে না পাখিদের। এর পরিবর্তে তাদের শ্বাসনালির নিচে সিরিংক্স নামের বিশেষ কণ্ঠনালি থাকে। পাখি যখন ফুসফুস থেকে বাতাস বের করে, তখন এই সিরিংক্সের পেশিগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত করে তারা বিভিন্ন রকম শব্দ বা মানুষের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে পারে। তোতাপাখি বা ময়না মানুষের মতো জিহ্বা ও ঠোঁট নাড়িয়ে শব্দের তীক্ষèতা এবং উচ্চারণ নিয়ন্ত্রণ করে। কথা বলা পাখির মস্তিষ্কে ‘সং মিউজিক সেন্টার’ নামে বিশেষ অংশ থাকে। শুনে শুনে নতুন শব্দ শিখতে, মনে রাখতে এবং তা পুনরায় উচ্চারণ করতে সাহায্য করে এটি।