ইউরোপের দেশে দেশে বিক্ষোভের আগুন

জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়, সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতি আর শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে ইউরোপজুড়ে আবার ফুঁসে উঠেছেন তরুণরা। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যুক্ত হওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে তীব্র আন্দোলন হচ্ছে। হ্যালোইন উদযাপনের মধ্যে গত শনিবার রাতে ফ্রান্সে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাত, জার্মানিতে নজিরবিহীন লুটপাট ও পেট্রোলবোমা হামলা এবং পোল্যান্ডে সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধানকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে তৃতীয় দফার গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিস, মার্শেইসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৫৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিক্ষোভগুলোতে দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। কেবল প্যারিসেই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বুলেভার্ড এলাকায় আনুমানিক ৭০ হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ত নুনিয়েজ জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১৫০টি নির্ধারিত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও, সমাবেশের শেষ দিকে, অর্থাৎ সন্ধ্যা নামতেই কিছু দাঙ্গাকারীর তীব্র সহিংসতার মুখে পড়ে পুলিশ। প্যারিসে বিক্ষোভের সময় এক দাঙ্গা পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে ককটেল বা মলোটভ ককটেল ছোড়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘হত্যার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্যারিসে চারজন পুলিশ সদস্য এবং একজন সামরিক পুলিশ আহত হয়েছেন। সংঘাত এড়াতে আগে থেকেই ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এলিট ইউনিটসহ ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমে মোতায়েন করেছিল।

উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে জার্মানির ৩৪টি শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো তরুণ। গত শনিবার বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। সেখানে হুডি ও মুখোশ পরা দাঙ্গাকারীরা অন্তত দুটি দোকানে লুটপাট চালায়। আরও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী এসব তথ্য জানিয়েছেন। জার্মানির ‘জেন-জি রেগেল্ট’ নামের একটি গোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। জার্মান ভাষায় এর অর্থ ‘জেন-জিই দায়িত্ব নিচ্ছে’। আয়োজকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত বিল বাতিলের দাবিতে পর্তুগালে বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থি সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে শনিবার লিসবনের অন্যতম প্রধান স্কয়ারে হাজার হাজার আবাসন আন্দোলনকারী পুনরায় সমবেত হয়েছেন। পর্তুগাল ইউরোপের অন্যতম মারাত্মক আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; যেখানে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মধ্য লিসবনের রোসিও স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে লোকসংখ্যার কোনো হিসাব জানানো হয়নি।