সাজেকে শিথিলের দিনেও অবরোধ

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় টানা ১০ দিনের অবরোধ শেষে গতকাল রবিবার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়। সাজেকে চলমান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট বিবেচনায় নিয়ে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করা হলেও অন্য একটি সংগঠনের ডাকে একই সময়ে অবরোধ পালিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ পালন করে।

অবরোধ শিথিলে সাজেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দূর হওয়ার আশা জাগলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠনের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন সম্ভব হয়নি। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেকের উদ্দেশে কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি। মাহিন্দ্রা ও জিপ গাড়ির শ্রমিকরা যান চলাচল বন্ধ রেখে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। যার ফলে সাজেকে চলমান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সাজেকের রেস্টুরেন্ট কর্মচারী মো. আব্দুস কুদ্দুস বলেন, একদিনের অবরোধ শিথিলে অন্তত আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু আজকে (রবিবার) আবার আরেকটি সংগঠনের অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি সাজেকে আসেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্য সাজেকে নেই। কারণ এখানে সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হয়। স্থানীয়দের উৎপাদিত কলার থোড়, সবজি খেয়ে আছি। তাও ভোজ্য তেলের অভাবে সিদ্ধ করে খাচ্ছি। পর্যটক না থাকায় স্থানীয়রা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে আনছেন না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা পরিচয় দিয়ে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকা-, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া ও পর্যটকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রবিবার সকাল ৬ ঘটিকা থেকে সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত সাজেকে দিনব্যাপী অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

এদিকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেছেন, সরকার এখনো দাবি মেনে না নেওয়ায় রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আবারও শুরু হয়েছে।