কাব স্কাউট কোর্সে চরম অব্যবস্থাপনা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক কোর্সে চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণ প্রকল্পের (চতুর্থ পর্যায়) আওতায় আয়োজিত এই আবাসিক কোর্সে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রশিক্ষণার্থীদের রাতে ভেন্যুতে না থাকার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৯ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ীÑ গত ২৭ অক্টোবর চন্দনাইশের উত্তর হারলা পূর্ব জোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এই ২৩৪তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সটি শুরু হয়, যা ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। কোর্স লিডার স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নানের (এলটি) পরিচালনায় আটজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ৪২ জন শিক্ষক এই কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, স্কাউটের কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও আবাসিক শর্ত মেনে এই প্রশিক্ষণ চলার কথা থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে সরবরাহ করা খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের, অন্যদিকে ‘আবাসিক’ কোর্স হওয়া সত্ত্বেও সিংহভাগ শিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী রাতে ভেন্যুতে থাকছেন না। স্কাউটিংয়ের মূল আদর্শ ও সরকারি প্রকল্পের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এমন দায়সারা ও নিয়মবহির্ভূত আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

খাবারের বরাদ্দ ও বাস্তবতা : একটি প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ৫০ জনের (৪২ জন প্রশিক্ষণার্থী ও আটজন প্রশিক্ষক) পাঁচ দিনের খাবার খাতে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জনপ্রতি দৈনিক ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বাজেটে মোট ছয় বেলা প্রধান খাবার ও ১০ বেলা নাস্তা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, এই বিপুল বরাদ্দের বিপরীতে তাদের দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার। সকাল ও বিকেলে নামমাত্র নাস্তা (ছোট কলা, আধাসিদ্ধ পরোটা বা দুটি বিস্কুট) এবং দুপুরে পানিযুক্ত সবজির সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত ছোট মুরগি বা মাছ দেওয়া হচ্ছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আবাসন বিধি লঙ্ঘন : বাংলাদেশ স্কাউটসের গঠন ও নিয়ম ১৯৭২ (সংশোধিত ২০২১) এর ৫৭ ধারা অনুযায়ী, ‘ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স’ সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়া বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষণার্থীদের ২৪ ঘণ্টা ভেন্যুতে অবস্থান করতে হবে এবং তাঁবু জলসা, ক্যাম্প ফায়ার, হাইকিং ও নাইট হাইকের মতো সব কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। অন্যথায় তারা সনদ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। তবে সরেজমিন গত চার দিন রাত ৯টার পর ভেন্যুতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। হোস্টেলে ৪২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা নিয়ম ভেঙে রাতে ভেন্যুর বাইরে চলে যান।

কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি : নিয়ম লঙ্ঘনের এই বিষয়টি চন্দনাইশ উপজেলা স্কাউটসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন। উপজেলা স্কাউটসের সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন, কমিশনার মো. হাবিবুল্লাহ এবং অর্থ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা নিজেরাও খোঁজ নিয়ে দেখেছি, রাতে অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থী ভেন্যুতে থাকছেন না। সেই সাথে খাবারের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। সামগ্রিক বিষয়টি আমরা জেলা ও আঞ্চলিক কমিটিকে অবহিত করেছি।’

খাবারের মান নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিবাদ : প্রশিক্ষণ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রশিক্ষণার্থীরা জোরালো প্রতিবাদ জানান।