কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় বিএনপি 

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ,পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে বিএনপির নেতাকর্মী। 

এলাকাবাসী, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবিতে শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের কারণে গত রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এ ঘোষণার পর প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন পোশাক শ্রমিকরা। কিন্তু তারা কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা উপজেলার মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। এ ঘটনায় এখানকার সব কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা, শিল্প পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেছেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন ঘোষণা করলেই হবে না। আমাদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এদিকে দুর্ভোগে পড়া যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মজুরি বোর্ড ঘোষণার পরও আজকে শ্রমিক আবার কেন আন্দোলনে নেমেছেন? এ দেশের মানুষ কিছু হলেই তারা সড়ক মহাসড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাংচুর করে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও তাদের স্বজনরা। 

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আজও সকালেই শ্রমিকরা ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।