মুক্তিযুদ্ধের পর এবার জুলাই চেতনা নিয়েও ব্যবসা করতে চায় একটি দল: ধর্মমন্ত্রী

অতীতে একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসা করেছে, আর এখন আরেকটি দল জুলাই চেতনাকে নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তবে বিএনপি কোনো চেতনার ব্যবসা করতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও সমাজ পুনর্গঠনে কাজ করতে চান তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত উপজেলা পরিষদ হলরুমে নিজস্ব তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দীর্ঘ তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রায় সাড়ে চার মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে আবেগঘন বক্তব্য দেন মন্ত্রী। এ সময় মুরাদনগরের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেকে এই জনপদের মন্ত্রী নয়, বরং সাধারণ কামলা ও খাদেম হিসেবে মনে করেন।

শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না। মুরাদনগরের সাম্প্রতিক পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল টানা দুই বা তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও খারাপ ফল করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, প্রতিবন্ধী ভাতা, কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মগুরুদের ভাতা প্রদান এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব হাছান খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু। সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে ও সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) এ কে এম কামরুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মজিবুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দুলাল দেবনাথ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া ও আব্দুল আজিজ মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাছান ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সনাতন ধর্মাবলম্বী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।