মৌলভীবাজারে আমনের বাম্পার ফলন, ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

মৌলভীবাজারে চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেমন্তের বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদারকিতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলে আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টারের সাহায্যে ও প্রাচীন পদ্ধতিতে আগাম আমন ধান কাটা এবং মাড়াই শুরু হয়েছে। চলতি বছরে জেলায় উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আগাম আমন ফলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা।

MixCollage-02-Nov-2026-07-06-PM-5671

সরেজমিনে মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আগাম আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের চোখে-মুখে প্রশান্তির ঝিলিক। এরইমধ্যে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়েও কৃষকদের ললাটে রয়েছে চিন্তার ভাঁজও। এরই মাঝে কেউ সনাতনী কায়দায় কাস্তে দিয়ে, আবার কেউ কেউ আধুনিক কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের তদারকিতে এবার মৌলভীবাজারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের আগাম আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার জেলায় ৯৯ হাজার ১৫৪ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে আমন ধানের গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন। সে হিসেবে এবার ৯৯ হাজার ১৫৪ হেক্টর জমি থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে।

কৃষকরা জানান, ধান চাষে সার, বীজ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরণের খরচ আগের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। ফলে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কৃষক শিমুল বলেন, ‘ইবার আমি ৯ কিয়ার জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। অন্য বছরের তুলনায় ফলনও ভালো অইছে। আওয়ারের (হাওরের) মাঝে সবার ধানই ভালো হইছে। খারাপ হইছে না কেউর ধান। হাইব্রিড ধানতো দেখা যায় খুবই ভালা। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গিয়ে ধানের মূল্যটা পাওয়া যায় না।’

একই এলাকার আমন ধান চাষি এস এম উমেদ আলী ও সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহীন বলেন, ‘জমিতে হাইব্রিড জাতের আমনের ভালো ফলন হয়েছে। এরইমধ্যে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু করেছি। তবে উৎপাদন খরচ তুলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।’

​মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া, অনুকূল আবহাওয়া ও সরকারি সহায়তার কারণে এবার জেলায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশকের যে সরবরাহ হয়েছিল সেটা আমরা সঠিকভাবে তদারকি করেছি। কোনো কৃষি উপকরণে কিন্তু ক্রাইসিস হয়নি, আমাদের তদারকিরও একটা কারণ ছিল। এসব কারণেই কিন্তু এ বছর আমনের খুব ভালো ফলন হয়েছে।’

​মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘আমন ধান চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, এই অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসছে। আমরা এটা আইনগতভাবে কিভাবে এটাকে হ্যান্ডেল করা যায় সেটা দেখব, যাতে অবশ্যই কৃষক তার ন্যায্য যে মূল্যটা সেটা যেন পান।’