স্ট্রোক প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি

স্ট্রোক বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের আক্রান্ত অংশের নিয়ন্ত্রণাধীন শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। রোগীর এক পাশের হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যেতে পারে, কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হতে পারে, ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে কিংবা হাঁটাচলার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত দুর্বল হয়ে পড়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এসব লক্ষণের যে কোনোটি দেখা দিলে অপেক্ষা না করে^ জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

স্ট্রোক প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ নিশ্চিত করা : ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হাঁটা, সাইক্লিং, নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা স্ট্রোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি উচ্চ-রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

উচ্চ-রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা : উচ্চ-রক্তচাপ স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলোর একটি। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি শারীরিক কার্যকলাপ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ : নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ-রক্তচাপ ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম পরিকল্পনা তৈরি করে ফিজিওথেরাপিস্ট সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারেন।

দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমানো : দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়া, নিয়মিত হাঁটা এবং দৈনন্দিন কাজে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানো স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানোর সামগ্রিক কৌশলের অংশ।

ব্যক্তিভিত্তিক ব্যায়াম পরিকল্পনা : প্রত্যেক মানুষের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, পূর্ববর্তী রোগ ও ঝুঁকি আলাদা। নিরাপদ ব্যায়াম, সহনশীলতা বৃদ্ধি, পেশিশক্তি উন্নয়ন এবং ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন নির্ধারণ করতে পারেন। যাদের হৃদরোগ বা অন্য জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।