পানির ফল পানিফল

বাংলাদেশের বিল-ঝিলে বিচ্ছিন্নভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে একসময় পানিফল গাছ জন্মালেও বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হচ্ছে। পানিফল দেখতে শিঙ্গাড়ার মতো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ফলকে শিঙ্গাড়া ফলও বলা হয়। পানিফল বর্ষজীবী জলজ গাছ।

এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি আছে। পানিফলের গাছ ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নিচে মাটিতে এর শিকড় থাকে এবং পানির ওপরে পাতাগুলো ভাসমান থাকে। এর পাতার কিনারা খাঁজকাটা ও পাতার বোঁটা পশমযুক্ত তেল তেলে। পানিফলের ক্ষুদ্রাকার ও সাদা রঙের উভয়লিঙ্গ ফুল হয়। চারটি পাপড়ির ছোট ছোট ফুল দেখতে খুবই মনোমুগ্ধকর। ফলের রঙ লাল, নীলাভ সবুজ বা কালচে সবুজ। পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপি-কার বা ত্রিভূজাকৃতির নরম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ মজা। রসাল ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত। কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি সিদ্ধ করে, রান্না করে কিংবা প্রক্রিয়াজাত করেও এ ফল খাওয়া যায়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত ফুটপাতেও পানিফল বিক্রি হতে দেখা যায়। পানিফল পুষ্টিতে ভরপুর। পানিফলের শুধু পুষ্টিগুণই নয়, রয়েছে ঔষধি গুণও। বর্ষা থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত পানিফল গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। পাতার সুবিন্যস্ত ভাঁজের সবুজ ক্যানভাসে ছোট্ট শুভ্র ফুল ফুটে থাকে। যা দেখতে এক কথায় অসাধারণ।