সাফ নিয়ে ঠান্ডা লড়াই বাফুফে-সাফের মধ্যে

দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই দিন (৫ নভেম্বর)। ইতিমধ্যে অংশগ্রহণকারী দল ভুটানও চলে এসেছে ঢাকায়। অথচ এখনো আয়োজন ঘিরে প্রস্তুতির দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায়নি। নেই প্রচার-প্রচারণা, এখনো পর্যন্ত হয়নি ট্রফি উন্মোচন কিংবা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের আয়োজক সাফ ও স্বাগতিক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে দূরত্বও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, সোমবার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রথম দল হিসেবে ঢাকায় এসেছে ভুটান। তবে তাদের আগমনের খবরও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অন্য দলগুলোর ঢাকায় পৌঁছানোর সময়সূচি কিংবা অনুশীলনের ভেন্যু নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই। এর মধ্যে টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ হবে জাতীয় স্টেডিয়ামে। কিন্তু স্টেডিয়ামের বাইরে এখনো সাফের আয়োজনের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। নেই ব্যানার, ডিজিটাল বোর্ড কিংবা প্রচারসামগ্রী। ২০০৩ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় সাফ আয়োজনের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির পার্থক্য তাই চোখে পড়ার মতো। সূত্রে জানা গেছে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে সাফ। পুরো আয়োজন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করতে বাফুফের সঙ্গে চুক্তিও করেছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে আয়োজনের দায়িত্ব মূলত সাফের হাতে থাকায় দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাফুফে।

সাফের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মিডিয়াকে বলেন, ‘এবার সাফ নিজেরাই সবকিছু করছে। আমাদের কথা সেভাবে শুনছে কম। যাই জিজ্ঞেস করি, ওরা বলে, সব সময়মতো হয়ে যাবে। এদিকে খেলা শুরু হতে আর দুই দিন বাকি, অথচ বাইরে থেকে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমরাও এ নিয়ে সেভাবে খুশি নই। সাফ আমাদের বড় আসর। অথচ আয়োজনে খামতি থাকলে কীভাবে হবে?’

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি সাফ কর্র্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তার ভাষ্য, ‘এর জন্য সাফ অফিস এবং তাদের সহযোগীরাই দায়ী। আপনি তো সাফ সভাপতিকে চেনেন। তাহলে মিডিয়া কখনো তাকে জিজ্ঞেস করে না কেন? আমাদের কাছে লিখিত চুক্তি আছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে সবকিছু সাফের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এমনকি স্টেডিয়ামটিও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে সাফ ভাড়া নিয়েছে।’ সাফের সব আয়োজনে উপস্থিত থাকা মিডিয়া ম্যানেজার আয়ুশ খাড়কাও থাকছেন না এবারের সাফে। নেপাল থেকে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি থাকছি না এবারের সাফের আসরে এটা নিশ্চিত। আমাকে তোমরা পাবে না।’ কেন আয়ুশ থকাবেন না, তা স্পষ্ট করে বলতে চাননি তিনি। এতেই বোঝা যাচ্ছে সাফ আয়োজনে খামতি কতটা।

আয়োজনের ঘাটতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বাফুফে সভাপতি নিজেও। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমি নিজেও সাফের আয়োজন নিয়ে বিরক্ত। কার দোষ দেবো এখানে? আগে তো এমনটি হয়নি। আমি আর মন্তব্য করতে চাই না।’

জানা গেছে, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে সাফ। তবে প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের বড় আয়োজন পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, এ ছাড়া অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে বাফুফের একজন সহসভাপতি ও একজন সদস্যের ভূমিকা রয়েছে বলেও আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আয়োজন নিয়ে অস্বস্তিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ।