বিক্ষোভ ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ অব্যাহত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গতকাল সোমবারও রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিরাজ করে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি। এ অবস্থায় সাভার ও আশুলিয়ায় এবং গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের চার শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে ২৬৪টি এবং গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানা রয়েছে।

সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

টানা দুই দিনের বিক্ষোভ-সংঘর্ষে মিরপুরে পুলিশ বক্স ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১৩ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে পাঁচটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬০ জনকে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় রাজীব চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে কিছু শিল্পমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা কয়েকজন জড়িত জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে, উসকানিতে পা না দিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার।

মিরপুর : সকালে রূপনগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকরা মিরপুর-২ নম্বর প্রশিকা মোড়ের দিকে আসতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাদের বাধা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তার কিছু সময় আগে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকরা প্রধান সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে যান।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ এলাকার সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলস নামে দুটি পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালানো হয়। তখনই দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করে কারখানা থেকে বের করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, আমাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছুড়ে কাচ ভেঙেছে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিকরা নেমে এসে ভাঙচুরে বাধা দেন। তখন তারা পাশের (সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন) কারখানার দিকে চলে যান।

সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের কারখানার নিচে থাকা সিসিটিভি মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কক্ষের কাচসহ শ্রমিকদের পাঞ্চমেশিন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কাচের আঘাতে একজন সিকিউরিটি গার্ডের হাত কেটে যায়। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান ফটকে সাময়িক বন্ধের নোটিস টাঙিয়ে দিতে দেখা গেছে।

আন্দোলনকারী শ্রমিক কায়কোবাদ বলেন, বর্তমানে সবকিছুর দাম বাড়তি। এই বেতনে জীবনযাপন করা খুবই কষ্টকর। দাবি অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি না করলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা কাজী ফয়সাল বলেন, ‘রবিবার পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। টিয়ারগ্যাসের ঝাঁজে বাসায় কেউ টিকতে পারছিল না। সেই তুলনায় আজ (সোমবার) পরিস্থিতি অনেক ভালো। কিন্তু এটার একটা সমাধান হওয়া উচিত, এভাবে চলতে পারে না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল সকাল থেকেই মিরপুরে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশকে অবস্থান করতে দেখা যায়। গোলচত্বরে প্রস্তুত রাখা হয় দাঙ্গা দমনের যান, জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন। এদিন সড়কে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। পথচারী ও সাধারণ মানুষও নির্বিঘেœ চলাচল করেন। তবে টানা তিন দিনের আন্দোলন ঘিরে পুরো এলাকায় এক ধরনের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিল আতঙ্ক। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফুটপাতে দোকান বসান হকাররা। নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক এলাকার প্রবেশপথের গেটগুলোও তালাবদ্ধ করে রাখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এদিকে সংঘর্ষের ক্ষতচিহ্ন তখনো রয়ে গেছে সড়কে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ইটপাটকেল, বাঁশ ও ভাঙা কাঠের টুকরা। কোথাও কোথাও দেখা যায় আগুনে পোড়া দাগ। কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ঘটনাস্থলে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘিœত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রবিবারের ঘটনায় শুধু শ্রমিকরাই জড়িত ছিলেন, এমন নয়; তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন, অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

অগ্নিসংযোগ নিয়ে পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার : রবিবার আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাজীব চন্দ্র দাস নামে এক যুবক। পরে গতকাল ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার যুবকের বাড়ি শরীয়তপুরে তুলাসার এলাকায়। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

৫ মামলায় আসামি ১৩ হাজার, গ্রেপ্তার ৬০ : রবি ও সোমবার বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পল্লবী থানায় তিনটি এবং মিরপুর মডেল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলার বাদী পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে অন্তত ১৩ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬০ জনকে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার বলেন, পাঁচটি মামলা হয়েছে, আরও মামলা হবে। প্রতিটি মামলায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গাজীপুর ও কালিয়াকৈর : সকালে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সফিপুর আনসার একাডেমি ৩নং গেইট এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে মহাসড়কটি বন্ধ করে দেয় তারা। খবর পেয়ে বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা ও শিল্প পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় খুঁটি সরিয়ে নেয়। বেলা ১১টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন শ্রমিকরা। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। আন্দোলনকারীরাও ইটপাটকেল ছোড়ে। অপরদিকে দুপুর ১২টার দিকে মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও আন্দোলনকারী মিলে অন্তত ৩০ জন আহত হন। একটার পর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনের কারণে নতুন করে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের নামে তৃতীয় পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে কয়েক দিন ধরে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন জানান, গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান বলেন, এটা শ্রমিকদের বিক্ষোভ বলে মনে করি না। এটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ’২৪-এর পরাজিত শক্তিরা আন্দোলনকে উস্কে দিচ্ছে। তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

সাভার ও আশুলিয়া : সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকরা কার্ভাডভ্যানে অগ্নিসংযোগ, ৮ কারখানায় ভাঙচুর চালায়। এতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। এ পরিস্থিতিতে ওই এলাকার ২৬৪ ফ্যাক্টরি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

সকালে শ্রমিকরা তাদের দাবি নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। অনন্ত ও হামীম নামে দুটি কারখানায় ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে নরসিংহপুর এলাকার নিউএইজ, নিট এশিয়া, অনন্ত, ট্রাউজার লাইন কারখানাসহ আশপাশের অনেক কারখানার শ্রমিকরা বেড়িয়ে এসে অংশ নেন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে সড়কের পাশে থাকা অধিকাংশ কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে সকাল থেকে শান্ত থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের উলাইলের আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা ১২টার দিকে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে এবং টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ ১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করে ৮টি ফ্যাক্টরি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। একটি ক্যাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ২৬৪ কারখানা ছুটি/বন্ধ ঘোষণা করে কর্র্তৃপক্ষ।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরেও যারা পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। যারা এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। যাদের গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের দলীয় পরিচয়ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ : দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে জড়ো হন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাসসহ দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এতে লিংক রোডের ৮ কিলোমিটারজুড়ে উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারী ও যাত্রীদের। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। বিকেল ৪টার দিকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন হওয়ার কথা নয়। তারপরও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। স্বার্থান্বেষী মহল এখানে উস্কানি দিচ্ছে। এটা বরদাশত করা হবে না।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের আশ^স্ত করেছি, সবাইকে নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সমাধান অচিরেই হবে। সেই পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন ধৈর্য ধরেন।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য সহায়ক। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। আপনারা কারও উস্কানির শিকার হবেন না।’

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।]