১৪ শিক্ষকের এক শিক্ষার্থী তাও ফেল!

গোপালগঞ্জে মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ।  শিক্ষক আছেন ১৪ জন।  আর কলেজ থেকে এ বছর মাত্র এক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন।  গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে শূন্য পাসের তালিকায় উঠেছে কলেজটি।

কলেজ সূত্রে জানায়, ২০২৫-২৬ সেশনে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজনই অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।  ওই গ্রামের বলরাম ওঝা, নির্মল বিশ্বাস, শুভেন্দু  সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য  পরিচালনা পর্ষদ ও  প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ শিক্ষকরা দায়ী। এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চান না। কারণ এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নেই। তাই কলেজ শাখা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।

জানা যায়, দুর্বাশুর আদর্শ স্কুল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত। নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। পরে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে স্কুলের ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে কলেজটি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়ে আসছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র মানবিক বিভাগ থেকে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রাম এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই।  তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন প্রতি বছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। কিন্তু ভালো কিছু হচ্ছে না।’

প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিল। পরে  এমপিও ভুক্ত না হতে পেরে অনেকে চলে গেছেন।  কলেজ শাখায় ভালো কিছু হচ্ছে না। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। তাই এটা বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হয় ।

সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো আমি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র এক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এটি তদন্ত করে দেখা হবে।