স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠে চাষ দিলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠটিতে গিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন কয়েকশ শিক্ষার্থী। পরে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টরসহ পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে উপস্থিত হন তারা। সে সময় মাঠে থাকা মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ দেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গবেষণা মাঠ হিসেবে পরিচিত এই জায়গায় সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা। এর আগে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেন তারা। মেলা বন্ধ না হওয়ায় গত ২৮ অক্টোবর মাঠের কিছু স্থাপনা ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি। নতুন করে আবার মেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে দাবি করে সোমবার আবারও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠে চাষ দেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান বলেন, ‘এ মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।’

মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান বলেন, ‘মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর আমরা মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর আয়োজক কমিটি এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা সরানো হয়নি। তাদের দাবি, স্থাপনা সরানোর পরিবর্তে মেলার আয়োজন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি এলাকার ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।’