দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গৃহকর নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিরোধ নিয়ে রায় দিয়েছে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের আদালত। রায়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকে বছরে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা গৃহকর পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার আদালত শুনানির পর এই কর নির্ধারণ করে রায় দেয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ সালে করা পঞ্চবার্ষিক কর পুনর্মূল্যায়নে বন্দরের গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬০ কোটি টাকা। বন্দরের আপত্তির মুখে সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সময় তা ৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬০ কোটি টাকা হারে গৃহকর আদায়ে উদ্যোগ নেন শাহাদাত হোসেন।
গৃহকর নিয়ে দুই সংস্থার বিরোধ সৃষ্টি হলে গত বছরের ১৪ আগস্ট ৮ সদস্যের যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। বন্দরের ১ কোটি ৭৩ লাখ বর্গফুট স্থাপনার জন্য ২৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে আবাসিক স্থাপনা রয়েছে ১৭ লাখ ২৪ হাজার ১০৬ বর্গফুট। এ ছাড়া অফিস, মার্কেট, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য অনাবাসিক স্থাপনা আছে ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৯ বর্গফুট এবং ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬ বর্গফুট ইয়ার্ড ও স্টোরেজ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থাপনার বিপরীতে বন্দরের কন্টেনার হ্যান্ডলিং, পোর্ট ডিউটি, বার্থিং-আনবার্থিং, পাইলোটেজ, টাগবোট ও লেট ফিসহ বিভিন্ন ভাড়া ও আয়ের ভিত্তি করে এবং বন্দরের সক্ষমতার উপরের বিবেচনা করেই চসিক পৌরকর নির্ধারণ করে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ স্থাপনার আয়তন নিয়ে একমত হলেও গৃহকর নিয়ে একমত হয়নি। গৃহকর পরিশোধের বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চেয়ে গত ১৩ এপ্রিল চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ২২ এপ্রিল ফিরতি চিঠিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (ট্যাক্সেশন) রুলস, ১৯৮৬ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ অনুযায়ী কর নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে নৌপরিবহনের মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার নেই। চিঠিতে সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত গৃহকর পরিশোধ করে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
পরে ২৬৪ কোটি টাকা গৃহকর পরিশোধ করতে প্রথম দফায় গত ২২ এপ্রিল বন্দর কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেয় সিটি করপোরেশন। এভাবে গৃহকর নির্ধারণে আপত্তি জানিয়ে গত ২৮ এপ্রিল চসিকে আপিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে আপিলে সিটি করপোরেশন নিজেদের নির্ধারিত কর আদায়ে অটল থাকলে পরে তারা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর চূড়ান্ত আপিল করে। চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশ জমা দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আপিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ২২৪ কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করে দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এই কর প্রযোজ্য। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, আমরা রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করব।