সালমান এফ রহমানসহ ৩১ জনের নামে মামলা

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি, শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে ও ভাইসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৫ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল সোমবার এক ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। অনুমোদন হওয়া এসব মামলায় আসামির তালিকায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের মাধ্যমে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেড, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেড ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা নিয়ে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখানো হয়। এর মাধ্যমে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তিন মামলায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নবসৃষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাদের অনুকূলে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা মঞ্জুর করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। পরে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়। তিনটি মামলার অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ভাই বেক্সিকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সোহেলের ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানসহ জনতা ব্যাংকের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এসব মামলার আসামি করা হচ্ছে।

তিন মামলায় মোট আসামি ৬৯ জন হলেও প্রকৃত ব্যক্তির সংখ্যা ৩১ জন। ১৩ জনকে তিন মামলাতেই আসামি করায় আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯ জনে।

স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার আসামি হচ্ছেন ২২ জন। এ মামলায় সালমান ফজলুর রহমান, তার ছেলে এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কে চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহাকে আসামি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া এ মামলায় স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন, ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নাঈম মাহমুদ সালেহিন ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর রয়েছেন।

অন্য আসামিরা হলেন আর আর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডইর স্বত্বাধিকারী আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমান; জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপক ও অবসরপ্রাপ্ত এজিএম (রপ্তানি) মো. হুমায়ুন কবির ঢালী, অবসরপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং বিবি এলসি বিভাগের ম্যানেজার (প্রিন্সিপাল অফিসার) শ ম মাহাতাব হোসাইন বাদশা।

আরবান ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সালমান এফ রহমান পরিবারের সদস্য ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কে চৌধুরী এবং পরিচালক এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহাকে আসামি করা হচ্ছে।