মিরপুরে বিক্ষোভে পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক মারধর

রাজধানীর মিরপুরের কালশী রোড ও ১১ নম্বর মেট্রো স্টেশন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সকালে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে।

এদিন সকাল থেকেই পল্লবীর বিভিন্ন শিল্প এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শ্রমিকদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টার মধ্যে শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
 
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে তীব্র সংঘর্ষ চলাকালে স্টেশনের ভেতরে বহু সাধারণ যাত্রী আটকা পড়েন। পরবর্তীতে পুলিশ প্রধান সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লাঠি দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন এবং কয়েকজন তাকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলের পাশের এক বাসার বারান্দা থেকে ভিডিও ধারণকারী এক নারী জানান, দলছুট হয়ে পড়া ওই পুলিশ সদস্য বিক্ষোভকারীদের মাঝখানে পড়ে গেলে চারপাশ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন, ‘হেরা পুলিশডারে মাটিত ফালাই দিসে। একজনে বন্দুক ছিনাই নিয়া রাস্তায় ফিইক্কা মাইরা ফালাই দিসে। পরে অনেকে মিইলা ইচ্ছামতো পিডাইসে। ওগোর মধ্যেই আবার কিছু লোকজন পুলিশরে বাচাই দিয়া ওইদিক (মিরপুর-১১ মেট্রোর দিকে) পাঠাই দিসে।’

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন বলেন, ‘এদিক (মিরপুর ১১) থেকে যখন শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে, তখন তারা কালশীর দিকে সরে যায়। সেই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর ১১-এর দিকে আসছিল। দলছুট অবস্থায় পেয়ে হামলা চালানো হয়।’

সংঘর্ষ চলাকালীন পূরবী শিল্প এলাকার বিভিন্ন গলি থেকে অন্তত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটককৃতরা কোনো পোশাকশ্রমিক নন; বরং তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। এ বিষয়ে ওসি জালাল উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা পুলিশের ওপর হামলারত অবস্থায় ছিল। গ্রেপ্তাররা কোনো পোশাক শ্রমিক না। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রথমে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানতেন না এবং খোঁজ নিয়ে পরে কথা বলবেন।

পুলিশের কঠোর অবস্থানের পর বর্তমানে মিরপুরের ওই এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ফলে যান চলাচল দুই পাশেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।