চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পরিবহনের পথে কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তার হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ কার্টন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর থানাধীন দারুসসালাম রোডের মিসকো সুপার মার্কেটের ৪০ নম্বর দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. সুজন হোসেন (২১) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার ছেলে।
সিআইডির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৪ অক্টোবর চীন থেকে আমদানি করা মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড, টেলিপ্রম্পটার, সফট বক্স ও মোবাইল ফোন হোল্ডারসহ মোট ১ হাজার ২৬০ কার্টন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ফিউচার প্লাস লজিস্টিকস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মাধ্যমে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে করে এসব পণ্য মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। মালামালগুলোর আনুমানিক মোট মূল্য ছিল ৭০ লাখ টাকা।
পরদিন ৫ অক্টোবর রাত ২টা ৩৫ মিনিটে কাভার্ড ভ্যানগুলো রাজধানীর পুরানা পল্টনে আবেদিন এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে পৌঁছায়। সেখানে দুটি কাভার্ড ভ্যানের মালামাল ঠিকঠাক পাওয়া গেলেও মো. রাবিউল নামের চালকের মাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম মেট্রো-ট-১১-৯২৯৭ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানের পণ্যে ঘাটতি দেখা যায়। ওই ভ্যানে থাকা ৪১০ কার্টনের মধ্যে ৩৪৩ কার্টন পাওয়া গেলেও বাকি ৬৭ কার্টন পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় আবেদিন এন্টারপ্রাইজের মালিকের পক্ষে মো. কুতুব উদ্দিন মজুমদার পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তার এজাহারের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৭, ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, জিডির তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ২৪ কার্টন পণ্য উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।