সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ: কৃষিপণ্য ও শিক্ষার্থীদের যানে ছাড়

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের মধ্যেই আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। অন্যদিকে, সাজেকের দুই সংগঠনের চলমান অবরোধে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘অনিদিষ্টকালের অবরোধের ১৩তম দিনে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচি ও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেক পর্যটন সড়ক অবিলম্বে সচল করা এবং পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৪ ও ৫ নভেম্বর) ৪৮ ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংগঠনটির দাবি, গত ১১, ১৫ ও ২২–২৩ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলের মদদপুষ্ট সংগঠন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের ঘোষিত অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন সড়ক, স্থানীয় পর্যটনশিল্প ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অবরোধের কারণে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী, যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাজেক পর্যটন সড়ক সচল করা ও পাহাড়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

অবরোধ চলাকালে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসামগ্রী, গণমাধ্যম ও জরুরি খাদ্যদ্রব্য বহনকারী যানবাহন কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।

এদিকে, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় চলমান সড়ক অবরোধের আওতামুক্ত যানবাহনের তালিকায় নতুন করে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীবাহী যানবাহন অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাজেকের পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে কৃষক ও কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সাজেকবাসীর পাঁচ দফা ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা একমত হয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবরোধের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির পক্ষে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমা।