জামায়াতের বক্তব্য ‘বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ’: টিআইবি

‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ’ বলে আখ্যায়িত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। তবে গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় জামায়াতে ইসলামীকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে সকল স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা অর্জন করতে হবে। কিন্তু জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালের ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
 
যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ, মজলিসে শুরা এবং সাধারণ সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী রয়েছেন। এই দাবির বিপরীতে টিআইবি জানিয়েছে, আরপিওতে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী রাখা হয়নি।

এছাড়া জামায়াত প্রতিটি স্তরে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি ও আলাদা মজলিসে শুরা পরিচালনার যে ব্যবস্থা রেখেছে, তাকে 'শুভঙ্করের ফাঁকি' বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।
 
দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নারীদের কোনো স্থান না দিয়ে শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে স্বতন্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করার মাধ্যমে মূল ধারার রাজনীতিতে নারীদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না, বরং তাদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত থেকে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

পাশাপাশি, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সমাজবিজ্ঞানে অনুসৃত গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করেই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
 
তাই গবেষণা তথ্যকে অসত্য বলার কোনো সুযোগ নেই। পরিশেষে, টিআইবি জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক দলকে গবেষণার ফলাফল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।