শেষ দিনের ভোটে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ দিনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তীব্র লড়াই চলছে, যেখানে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট —উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি (৪৩৫টি) আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ২১৯-২১৪ ব্যবধানে এবং সিনেটে ৫৩-৪৭ ব্যবধানে তারা এগিয়ে থেকে নির্বাচনে নেমেছে।

বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাস এবং ওপেন মার্কেট ডাটা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখল করার দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে। তবে সিনেটের লড়াইটি হবে বেশ হাড্ডাহাড্ডি।

কেন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে?

সাম্প্রতিক এনবিসি নিউজের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশ কমেছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং এতে আমেরিকার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

এবার রেকর্ড সংখ্যক (প্রায় ৫৭ মিলিয়নের বেশি) মার্কিন নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন, যা সাধারণত বিরোধী দলের ভোট বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

ভোটের ফলাফল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণও হারায়, তবে ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনকাল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে এবং ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে দিতে সক্ষম হবে।

দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ রাত থেকেই প্রাথমিক ফলাফল আসতে শুরু করবে। তবে মেইল-ইন ব্যালট গণনা এবং আলাস্কা বা মেইনের মতো রাজ্যে র্যাংকড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতির কারণে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।