মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের উপকার করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মানুষের জীবন রক্ষা করা ও কষ্ট লাঘবের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম উপায়। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তদান একটি মহৎ মানবিক কাজ। ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের সহযোগিতার রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও প্রতিদান।
নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে যেমন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তেমনি মানবসেবার মাধ্যমেও তার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এ জন্যই মহান আল্লাহ বান্দাদের উদ্দেশ করে পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘পূর্ব ও পশ্চিমে মুখ ফেরানোটাই সৎকর্ম নয়, বরং প্রকৃত সৎকর্মশীল ওই ব্যক্তি, যে বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতারা, আল্লাহর কিতাব ও নবীদের ওপর এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয় করে নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, মুসাফির, প্রার্থী ও দাসমুক্তির জন্য।’ (সুরা বাকারা ১৭৭)
কেউ যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রক্তদান করে, তাহলে সে মহান আল্লাহর কাছে এর উত্তম প্রতিদান পাবে ইনশাআল্লাহ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল।’ (সুরা মায়েদা ৩২)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘কুকুরকে পানি পান করিয়ে এক ব্যভিচারী নারী ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি)
কুকুর তো হলো নিকৃষ্ট প্রাণী। আর মানুষ হলো আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব। সুতরাং মানুষের জীবন বাঁচানো কতটা ফজিলতের হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তাদের পাশে দাঁড়ালে দুনিয়া ও আখেরাতে মহান আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। মানুষের দোয়া পাওয়া যায়। আল্লাহর কাছে এর উত্তম বিনিময় পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবনদান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব।’ (সুরা নাহল ৯৭)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক কোনো ইমানদারের দুনিয়া থেকে কোনো মুসিবত দূর করে দেবে, আল্লাহতায়ালা বিচার দিবসে তার থেকে মুসিবত সরিয়ে দেবেন। যে লোক কোনো দুস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে মহান আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম)
রক্তদান একটি মানবিক দায়িত্ব ও মহৎ কাজ। এর মাধ্যমে একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। তবে রক্তদানের আগে নিজের শারীরিক সক্ষমতা এবং রোগীর প্রয়োজন বিবেচনা করা জরুরি। কোনো ধরনের বিনিময়ের আশা না করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রক্তদান করলে তা নেক আমল হিসেবে গণ্য হবে। তাই সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুমিনের উচিত, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
লেখক : ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক