ইউক্রেনে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রুশ হামলায় নিহত ২৬

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। গত সোমবার অঞ্চলটির কোমিশুভাখা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক প্রশাসনপ্রধান মিখাইলো সেমিকিন জানান, গ্রামটিতে অন্তত ৯টি তিন হাজার কেজি ওজনের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর প্রাথমিকভাবে ২৭ জন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক অভিযান পরিচালনার জন্য গত মঙ্গলবার থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। গত রবিবার এর মেয়াদ শেষ হয়।

জেলেনস্কি জানান, রুশ বাহিনী প্রথমে মানবিক সহায়তা ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে বিমান বোমা ফেলে। মানুষ যখন সেখানে ত্রাণ নিতে জড়ো হচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় আরও শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়। এটিকে একটি ‘জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, কোমিশুভাখা গ্রামের যেসব বাসিন্দারা সপ্তাহেই ওই কেন্দ্রে মানবিক সহায়তা নিতে আসেন; বিষয়টি রাশিয়ার অজানা থাকার কথা নয়। তার মতে, এই হামলা প্রমাণ করে রাশিয়া উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী নয়। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে রাশিয়া-অধিকৃত ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ অভিযান সফল হয়েছিল। তখন শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন এই হামলা তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক প্রশাসন প্রধান সেমিকিন ঘটনাটিকে গ্রামের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ চললেও ওই এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার কারণে কয়েক দফা অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পুরো জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আবারও শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।