ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করা ইরানিদের ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সীমিত আকারে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও জানায়, হামলার পরিসর ছোট ছিল। আপাতত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন ট্রাম্প। ইরান নিয়ে তার বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজের প্রশাসন ও সরকারের অনেক কর্মকর্তার মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত কেশম দ্বীপে ইরানের একটি বৃহৎ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, একটি নৌঘাঁটি এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে। এর আগেও দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি এটি দখলে নেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে পূর্বের মতো এবার হামলার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি ওয়াশিংটন। বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত এড়াতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে, দ্বীপটির আশপাশে বিস্ফোরণের খবর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা একে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করে জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতেই এই অভিযান।

এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি। এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’ নির্বাচনের পর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি ‘না’ সূচক জবাব দিলেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক ও কৌশলগত সব বিকল্পই এখনো প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে গিয়ে ট্রাম্পকে সংঘাতের পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদ মোতায়েন করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলে উপসাগরীয় মিত্রদের আগেই সতর্ক করেছিল ওয়াশিংটন। নতুন বিমান হামলা ছাড়াও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা এবং বাণিজ্যের ওপর অবরোধ জোরদার করার মতো একাধিক বিকল্পও ট্রাম্পের সামনে রাখা হয়েছে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে সুর নরম করেছেন ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তারা জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চলমান আলোচনা সফল হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার প্রত্যাশাতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে। অন্যদিকে সোমবার তেহরানে এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির বিষয়ে ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’।