ইয়ামাল-এমবাপ্পের উচ্চতায় লেনার্ট কার্ল

ডাগআউটে ছিলেন না প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, স্কোয়াডেও ছিল একাধিক ফুটবলারের উপস্থিতি সংকাট। তার ওপর খেলাটি আবার প্রতিপক্ষের মাঠে। তবে এসব প্রতিকূলতা ও চোটের বড় ধাক্কা সামলে মাঠের ফুটবলে নিজেদের শক্তির জানান দিল বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে জার্মান জায়ান্টরা। বায়ার্নের এই দুর্দান্ত জয়ের রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের পঞ্চম গোল করে ইতিহাস গড়েছেন ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার লেনার্ট কার্ল।

মাদ্রিদের রিয়াদ এয়ার মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামে ২০১৯ সালের ফাইনাল হারের স্মৃতি ভুলে ফেরার লক্ষ্য ছিল বায়ার্নের ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের। ব্যালন ডি'অর জয়ের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ইউরোপিয়ান ম্যাচ। কেইন নিজে গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণে চমৎকার নেতৃত্ব দিয়েছেন। ম্যাচের শুরুতেই হুলিয়ান আলভারেসের জোরালো শট পোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে বেঁচে যায় বায়ার্ন। এরপর পুরো ম্যাচেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে বায়ার্ন মিউনিখ, যার প্রমাণ মেলে প্রথমার্ধে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল ও পুরো ম্যাচে নেওয়া ১৯টি শটে।

ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলটি পান কার্ল। টম বিশফের ডিফ্লেক্টেড শট আতলেতিকো ডিফেন্ডার রবিন ল্য নরমান ও মার্ক পাবিল ক্লিয়ার করতে গিয়ে একে অপরের পথ আটকে দাঁড়ান। সেই সুযোগে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করেন এই তরুণ।

এই গোলের মাধ্যমে ১৮ বছর ২৫৪ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ক্যারিয়ারে ৫টি গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন লেনার্ট কার্ল। উয়েফার তথ্যমতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কার্লের চেয়ে কম বয়সে ৫টি গোল করার কীর্তি রয়েছে মাত্র তিনজনের—লামিন ইয়ামাল (১৭ বছর ২৯১ দিন), কিলিয়ান এমবাপে (১৮ বছর ১২০ দিন) এবং রাউল গঞ্জালেস (১৮ বছর ১৬২ দিন)। কার্লের এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে তিনি হলেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে চতুর্থ কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় যিনি এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে দ্রুত তিনটি পরিবর্তন এনে (লি ক্যাং-ইন, কোকে ও আদেমোলা লুকম্যান) ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৭৪ মিনিটে বায়ার্নের দ্বিতীয় গোলটি স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার সব আশা শেষ করে দেয়। আলফনসো ডেভিস বল কাড়ার পর হ্যারি কেইন ডান প্রান্তে পাস বাড়িয়ে দেন কোনরাড লাইমারের দিকে। ঠাণ্ডা মাথার দারুণ এক ‘ডামি’ দিয়ে আতলেতিকোর ডিফেন্ডার দাভিদ হাঞ্চকোকে ছিটকে ফেলে কোনাকুনি বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান লাইমার।

 

আগের ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ ম্যানুয়েল নয়্যার ও দেয়ো উপামেকানোদের সুসংগঠিত রক্ষণের সামনে খুব একটা বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কোম্পানির অবর্তমানে সহকারী ম্যানেজার অ্যারন ডাঙ্কসের পরিচালনায় পাওয়া এই জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন লিগ পর্বে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিতের পথে বড় পদক্ষেপ নিল বায়ার্ন মিউনিখ।