স্কুলের কাছে মাদ্রাসা স্থাপনে নীতিমালা চান জয়নুল আবেদীন ফারুক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কয়টি মাদ্রাসা ও ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন থাকবে তা নির্ধারণে নীতিমালা চান বিএনপি নেতা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক। এ সময় তিনি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র, শিক্ষকদের অবহেলা এবং যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা গড়ে ওঠার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ঢাকা থেকে নোয়াখালী ফেরার পথে সেনবাগ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন শেষে ফেসবুকে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের চমৎকার উপস্থিতি ও লেখাপড়ার উন্নত মান লক্ষ্য করা গেলেও বেশ কিছু স্কুলের চিত্র ছিল চরম হতাশাজনক। দুই একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি ছিল না।এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে শিক্ষকদের স্মার্টফোন ব্যবহারের মতো অপেশাদার  আচরণও চোখে পড়ে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের চরম উপস্থিতির অভাবকে তুলে ধরে তিনি লেখেন, দুই একটি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি একেবারেই নেই বললেই চলে। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় যে সরকারি স্কুলগুলোর এক কিলোমিটারের মধ্যেই তিন-চারটি করে ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। 

শিক্ষকদের বরাত দিয়ে তিনি লেখেন, করোনা মহামারির সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসাগুলো খোলা ছিল। মূলত ওই সময় থেকেই অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়ানোর দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।

এই পরিস্থিতির উত্তরণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বা দুই কিলোমিটারের মধ্যে কয়টি মাদ্রাসা বা ইসলামিক কিন্ডারগার্টেন থাকতে পারবে, তা নির্ধারণে সরজমিন তদারকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার  জন্য তিনি সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে এই সংসদ সদস্য লেখেন অনেক স্কুলের পুরনো ভবন বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।