স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ ইখতারা সরকার (৩০) মারা গেছেন। বুধবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইখতারা সরকার আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা গ্রামের ঈদন সরকারের মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়া ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চর-চারতলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গীর মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে ইখতারার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন। প্রায় দেড় মাস আগে স্বামীর মারধরের শিকার হয়ে দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন ইখতারা।

স্বজনদের দাবি, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

পরদিন ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে ঘরে ঢোকেন জাহাঙ্গীর। এ সময় বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে স্বজনেরা এগিয়ে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় ইখতারার গলা ও কণ্ঠনালীসহ শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।