তৃণমূল থেকে বিশ্বমঞ্চে উঠুক লাল-সবুজের প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন প্রজন্মের মেধা, শ্রম, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমই হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’। এ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি শিশু স্বপ্ন দেখার, নিজের প্রতিভা বিকাশের এবং যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। খেলাধুলা হবে সুস্থ জীবনধারা, শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও জাতীয় ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি।

সারাদেশের কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে প্রথম আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিযোগিতাটির দ্বিতীয় আসর। প্রথম আসর সিলেট স্টেডিয়াম থেকে শুরু হলেও এবার ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশব্যাপী প্রতিযোগিতাটির উদ্বোধন হবে।

দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে গত ১ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন করেছে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার খুদে খেলোয়াড়। বিপুলসংখ্যক কিশোর-কিশোরীর এই আগ্রহকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এবার প্রতিযোগীদের বয়সসীমা ১০ থেকে ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হওয়ায় ক্রীড়া বিভাগের সংখ্যা ৮ থেকে বেড়ে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা খুঁজে বের করা, সম্ভাবনার বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া নেতৃত্ব তৈরির কার্যকর উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাবে। তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কৃতী খেলোয়াড় উঠে আসবে, যারা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরবে।

তিনি আরও বলেন, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে বড় শক্তি নতুন প্রজন্ম। তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং আত্মবিশ্বাসী, সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন বা প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, শিক্ষা ও খেলাধুলার সমন্বয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের সমান সুযোগ দেওয়া এবং নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ ও বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন সম্ভাবনাময় শিশুও যেন যথাযথ প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইতোমধ্যে দেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি প্রথম আসরের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি খুদে ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া প্রথম আসর গত ২৭ জুলাই ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে শেষ হয়।

প্রথম আসর থেকে বাছাই করা ৩০৬ জন প্রতিভাবান খুদে ক্রীড়াবিদকে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন ৪০ জনকে সরাসরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিকেএসপিতে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাণীর শেষাংশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’-এ অংশগ্রহণকারী সব খুদে ক্রীড়াবিদ, তাদের অভিভাবক, প্রশিক্ষক, আয়োজক এবং এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাটির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তিনি।